পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারানোর শঙ্কায় বাংলাদেশ

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারানোর শঙ্কায় বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কয়েকটি কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের ভেতরে গ্যাস সংকট, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাব পড়ছে পোশাক শিল্পে।

পাশাপাশি মার্কিন শুল্কনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি, ভিয়েতনামের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও পণ্যের দরপতন বিরূপ প্রভাব ফেলছে রপ্তানিতে। উভয় সংকটের মুখে তৈরি পোশাক শিল্প পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার কাছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ভিয়েতনামের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস রপ্তানি ২২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার, আর ভিয়েতনামের ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের ব্যবধান এখন মাত্র ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, 'বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরেই বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে অতিক্রম করতে পারে। গত বছর ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।'

তিনি আরও বলেন, 'চীনের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কমলেও এর সুফল বাংলাদেশ নিতে পারেনি। বরং কম্বোডিয়া ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে নতুন বাজারের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিয়েছে।'

ডব্লিউটিও-র তথ্য মতে, ২০২৫ সালে বিশ্ব পোশাক বাজারের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা আবার কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ভিয়েতনামের অংশ ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে দুই দেশের ব্যবধান এখন মাত্র শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ পয়েন্ট।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, 'মার্কিন শুল্কনীতি, ইউরোপের বাজারে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি, অর্থায়ন, লজিস্টিকস ও নীতিগত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।'

প্রতিযোগিতায় অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।