ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে এসব গর্ত আরও গভীর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় মহাসড়কে গতি কমে গেছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, আর বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।
রোববার (১২ জুলাই) শেষ রাতের ভারি বৃষ্টির পর মহাসড়কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় স্বাভাবিক রাস্তা — তা বুঝতে না পেরে অনেক চালক হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। ভারি ট্রাক, বাস ও কাভার্ডভ্যান চলাচলের কারণে এসব গর্ত দ্রুত বড় হচ্ছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক যানবাহন লেন পরিবর্তন করছে, এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের চালকেরা। অনেক প্রাইভেট কারের চাকা গর্তে পড়ে নিচের অংশ রাস্তায় আঘাত লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মোটরসাইকেল আরোহীরা সামান্য অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনায় পড়ছেন। যাত্রীবাহী বাসগুলোও বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলছে, ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কিছুদিন পরপর ইট বা খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করা হয়। কিন্তু ভারি যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টিতে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই মেরামত নষ্ট হয়ে যায়। একই স্থানে বারবার গর্ত তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুর হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পণ্যবাহী যান, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল এই সড়ক ব্যবহার করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ছে না, পণ্য পরিবহনেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, 'এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রকৃতির কাছে আমরা সবাই অসহায়। এমসি বাজার এলাকায় অসংখ্য ছোট ছোট গর্ত ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কিছু অংশ মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। বাকি কাজও প্রক্রিয়াধীন।'
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, 'মহাসড়কের গর্তগুলো মেরামতের কাজ চলমান। তবে গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় পূর্ণমাত্রায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও জরুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃষ্টির মধ্যেই মেরামত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, মহাসড়কটিকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করতে টেন্ডারের মাধ্যমে দুজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থামলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাময়িক সংস্কারে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে বারবার একই স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার করে মহাসড়ককে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করার দাবি তাঁদের।

আপনার মতামত লিখুন :