ময়মনসিংহে ৫৬ বছরের ইমামতির স্বীকৃতি, ওমরাহ পালনে সৌদি আরব পাঠালেন এলাকাবাসী

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬

৫৬ বছরের ইমামতির স্বীকৃতি, ওমরাহ পালনে সৌদি আরব পাঠালেন এলাকাবাসী

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ইমামতির দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ভালোবেসে তাঁকে এই উপহার দিয়েছেন গ্রামবাসী।

হাফেজ আব্দুল কদ্দুস ১৯৭১ সাল থেকে দারিয়াকান্দা গ্রামের এই মসজিদে ইমামের দায়িত্বে আছেন। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি নামাজ পরিচালনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া, ধর্মীয় পরামর্শ প্রদান এবং এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। দীর্ঘ এই সেবার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো গ্রামের মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

বুধবার গ্রামের বাসিন্দা, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের যৌথ উদ্যোগে হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত অনেকেই তাঁর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং নিরাপদে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম ফজলুল হকের ভাষ্যমতে, তরুণ বয়সে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাফেজ আব্দুল কদ্দুস নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শারীরিক অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও যথাসাধ্য মসজিদে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি—এমনটাই জানান স্থানীয়রা। তাঁর বিনয়, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানবিক আচরণের কারণে গ্রামবাসীর কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

ইমামকে ওমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু ও আশরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার প্রতি সম্মান জানাতেই এলাকাবাসী মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের ভাষায়, এটি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইমামের প্রতি একটি বিশেষ উপহার।

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ইমামতি করার পরও এভাবে সম্মানিত হবেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান। এলাকাবাসীর জন্য দোয়া করে তিনি বলেন যে পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি ও সবার কল্যাণ কামনা করবেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও