১১তম গ্রেডের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশের ঘোষণা, অনশনের হুঁশিয়ারি

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দাবি: ডিসেম্বরে কঠোর আন্দোলনের হুংকার, মহাসমাবেশের ঘোষণা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করাসহ তিন দফা দাবি আদায়ে ছয় ধাপের কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং প্রয়োজনে আমরণ অনশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

তিন দফা দাবি

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষিত তিন দফা দাবিগুলো হলো— ১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা। ২. চাকরির ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা। ৩. জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ শিক্ষকদের হয়রানিমূলক বদলির আদেশ বাতিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

ছয় ধাপের আন্দোলনের কর্মসূচি

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী ৮ নভেম্বর সারাদেশে শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। একই দিনে প্রয়াত শিক্ষিকা ফাতেমা এবং আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে কেন্দ্রীয়ভাবে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • তৃতীয় ধাপ: ৮ নভেম্বরই তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকদের কাছে দেওয়া হবে।

  • চতুর্থ ধাপ: আগামী ১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি দেবেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।

  • পঞ্চম ধাপ: বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অথবা শাহবাগে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে (নির্দিষ্ট তারিখ পরে জানানো হবে)।

  • ষষ্ঠ ধাপ: দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জাতীয় প্রেসক্লাব অথবা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশন পালন করবেন শিক্ষকরা।

এক বছরেও মেলেনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা জানান, গত বছরের নভেম্বরে আন্দোলনের পর সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

গত বছরের ৮ থেকে ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দশম গ্রেডের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষকরা। এ সময় ৮ নভেম্বর শাহবাগ এলাকায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডে বহু শিক্ষক আহত হন। পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে এবং পরদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাসে শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন।

শিক্ষক নেতারা আরও জানান, চলতি বছরের ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয়। তা সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি এবং নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় দুই পদের মধ্যে তিন গ্রেডের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর না হলে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও