আইফোনের শর্টকাটস অ্যাপে সকালের কাজ সহজ হবে যেভাবে

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

আইফোনের শর্টকাটস অ্যাপে সকালের কাজ সহজ হবে যেভাবে

সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনেকের কাছেই সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়। ক্যালেন্ডার দেখা, আবহাওয়ার খবর নেওয়া, অফিসে পৌঁছানোর সময় হিসাব করা—এসব ছোট ছোট কাজ সামলাতে গিয়েই সময় নষ্ট হয় অনেকের। আইফোনের ‘শর্টকাটস’ অ্যাপ ব্যবহার করে এই কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করে ফেলা সম্ভব, ফলে সকালের রুটিন হয়ে ওঠে আরও গোছানো।

অ্যাপল জানিয়েছে, আসন্ন ‘আইওএস ২৭’ সংস্করণে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায় কাস্টম শর্টকাট তৈরি করা আরও সহজ হয়ে যাবে। ব্যবহারকারীদের আর ম্যানুয়ালি অটোমেশন তৈরি করতে হবে না, সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিলেই এআই নিজে থেকে শর্টকাট বানিয়ে দেবে। তবে এখনই তৈরি থাকা কিছু শর্টকাট ব্যবহার করে সকালের ব্যস্ততা কমানো যায়। নিচে এমন পাঁচটি শর্টকাটের কথা তুলে ধরা হলো।

১. মর্নিং সামারি

সকালের জরুরি সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায় এই শর্টকাটে। এতে থাকে দিনের ক্যালেন্ডার শিডিউল, জমে থাকা রিমাইন্ডার এবং আবহাওয়ার সবশেষ অবস্থা—তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাসহ। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে এসব তথ্য একটি গোছানো বুলেট-পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দেয় শর্টকাটটি, ফলে আলাদা আলাদা অ্যাপে ঢুকে তথ্য খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না।

২. কখন রওনা হতে হবে

অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে কখন বাসা থেকে বের হওয়া উচিত, তা হিসাব করে দেয় এই শর্টকাট। সড়কের লাইভ ট্রাফিক পরিস্থিতি, বাসা ও অফিসের লোকেশন এবং পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় বিবেচনায় নিয়ে এটি কাজ করে। প্রতিদিন আলাদাভাবে নেভিগেশন অ্যাপ চেক না করেই এক ট্যাপে বের হওয়ার সময় জেনে নেওয়া যায়।

৩. রানিং লেট

অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলে কাজে লাগে ‘রানিং লেট’ শর্টকাট। ক্যালেন্ডারে থাকা ইভেন্টের লোকেশন ব্যবহার করে এটি পৌঁছানোর আনুমানিক সময় হিসাব করে। এর পাশাপাশি সহকর্মী বা ম্যানেজারকে জানানোর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বার্তাও তৈরি করে দেয়, যা শুধু দেখে ‘সেন্ড’ করলেই চলে।

৪. রিমাইন্ড মি অ্যাট ওয়ার্ক

লোকেশন-ভিত্তিক রিমাইন্ডার সেট করার প্রক্রিয়া সহজ করে দেয় এই শর্টকাট। অফিসের ঠিকানা একবার যুক্ত করে নিলে পরবর্তী সময়ে শুধু করণীয় কাজটি টাইপ করলেই হয়। অফিসে পৌঁছানোমাত্র আইফোন নিজে থেকেই সেই নোটিফিকেশন সামনে নিয়ে আসে, যা পৌঁছানোর পরপর জরুরি কাজ মনে রাখতে সহায়ক।

৫. মর্নিং রুটিন

একাধিক কাজকে একসঙ্গে জুড়ে কাস্টমাইজড ‘মর্নিং রুটিন’ শর্টকাট তৈরি করে নেওয়া যায়। এক ট্যাপেই চালু করা যায় কফি বা ওয়ার্কআউটের টাইমার, বেজে ওঠে পছন্দের প্লে-লিস্ট, খুলে যায় প্রয়োজনীয় ইমেইল বা প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ, আর মিডিয়া ভলিউমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যায়। ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী এই শর্টকাট নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া যায়।

আইওএস ২৭-এ অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স যুক্ত হলে এই ধরনের শর্টকাট তৈরির প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। তবে তার আগেই এসব প্রস্তুত অটোমেশন ব্যবহার করে সকালের ব্যস্ততা কমিয়ে দিনের শুরুটা করা যায় আরও গোছানোভাবে।