ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন-রাত সমানে চলছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ি থেকে গ্রিল, কাপড়ের বান্ডিল থেকে শুরু করে নানা মালামাল খোয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত দুই দশক ধরে চলা এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি এখনো।
গত রাতে উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারি–সংলগ্ন ভূতের গলির প্রবেশমুখে জনাব খাইরুল ইসলামের (স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাদা খাইরুল নামে) বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে নিয়ে যায় চোরচক্র।
এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে ফুলবাড়ীয়া থানা ভবনের সামনে অবস্থিত সাবেক জিন্নাহ হল থেকে চুরি হয়ে যায় কাপড়ের একটি বড় বান্ডিল। থানার একেবারে গা ঘেঁষে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়—কেআই সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকা, গৌরীপুর এলাকাসহ পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে দিনে ও রাতে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিহ্নিত চোরেরা দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করে। পুলিশ মাঝেমধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করলেও অল্প সময় পরই জামিনে বা সাজা শেষে ছাড়া পেয়ে ফের একই কাজে জড়িয়ে পড়ে তারা। চুরি করা মালামাল বিক্রি হয় বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে, আর সেই টাকায় চলে মাদক সেবন—এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত প্রায় ২০ বছর ধরে এই একই চিত্র দেখে আসছেন তারা। সমস্যাটি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত একটি সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।
বারবার চুরির শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—এই সমস্যার প্রতিকার পেতে তাদের যেতে হবে কোথায়, কার কাছে? থানায় অভিযোগ করেও যখন কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না, তখন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিমত, মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষায়, রাতের অন্ধকারে চোরের সাহস তখনই বাড়ে, যখন পাহারা কমে যায়। তাই কার্যকর পুলিশি টহলের পাশাপাশি নাগরিক সতর্কতা ও এলাকাভিত্তিক পাহারা ব্যবস্থাকে সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে দেখছেন বাসিন্দারা।
- Tags:
- ফুলবাড়ীয়া
- ফুলবাড়ীয়া নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :