ময়মনসিংহে দলিল লেখক মিন্টু হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

ময়মনসিংহে দলিল লেখক মিন্টু হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৩০ হাজার টাকা ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ফরিদ খলিফা ও পলাতক মো. মাসুদ মিয়া। রায়ের সময় ফরিদ খলিফা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল মতিন, বাবা আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী, মো. মোশারফ হোসেন, মো. মোফাজ্জল হোসেন, ভাই মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. নজরুল মিয়া, মো. মোকলেছুর রহমান, মো. শাহজাহান আকন্দ, ভাই মো. আতিকুল ও পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়া।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আবু জাকারিয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ১৫ আগস্ট নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আকরাম হোসেন বলেন, 'জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আবু জাকারিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ড সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দ্রুত রায় কার্যকর হোক — এই প্রত্যাশা রয়েছে।'

রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত নিহতের ছেলে জাহিদ হাসান তালুকদার বলেন, 'দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। আজ আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছেন পরিবার। এখন একটাই দাবি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।'

অন্যদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আতিকুলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'রায়ে সন্তুষ্ট নন পরিবার। উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।'

রায় ঘোষণার পর ১০ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান।