ইসলামে মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। তবে স্বামী-স্ত্রীর একজন মৃত্যুবরণ করলে অন্যজন তার গোসল করাতে পারবেন কি না — এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। কুরআন, হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরামের আমলের আলোকে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা পাওয়া যায়, তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত স্বামীকে কি স্ত্রী গোসল করাতে পারবেন?
অধিকাংশ ফকিহের মতে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল করাতে পারেন। এর কারণ হলো, স্বামীর মৃত্যুর পরও স্ত্রী ইদ্দত পালন করেন এবং এই সময় পর্যন্ত বৈবাহিক সম্পর্কের কিছু বিধান বহাল থাকে। তাই তিনি স্বামীর মুখ দেখতে, তাকে স্পর্শ করতে এবং শরয়ি বিধান অনুযায়ী গোসল করাতে পারেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রা.) তাঁকে গোসল করিয়েছিলেন। (মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ৩০৩)
প্রখ্যাত তাবেঈ ও ফকিহ সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, স্বামীর ইন্তেকালের পর স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারবেন, কেননা তিনি এখনও স্বামীর ইদ্দতের মধ্যে আছেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক ৬১১৯)
মৃত স্ত্রীকে কি স্বামী গোসল করাতে পারবেন?
এ বিষয়ে ইসলামী আইনবিদদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, স্ত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই স্বামীর জন্য মৃত স্ত্রীকে গোসল করানো জায়েজ নয়।
অন্যদিকে ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমদ (রহ.)-সহ অনেক আলেমের মতে, স্ত্রী জীবদ্দশার মতো মৃত্যুর পরও স্বামীর জন্য মাহরাম থাকেন। তাই স্বামী চাইলে মৃত স্ত্রীকে গোসল করাতে পারেন।
এই মতের পক্ষে আলেমরা হজরত আলী (রা.)-এর আমলের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, তিনি তাঁর স্ত্রী ফাতিমা (রা.)-এর মৃত্যুর পর তাকে গোসল করিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন, তুমি যদি আমার আগে মৃত্যুবরণ করতে, তাহলে আমি নিজেই তোমাকে গোসল করাতাম। (ইবনে মাজাহ ১৪৬৫)
মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে করণীয়
এ বিষয়ে যেহেতু ফকিহদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের অনুসৃত মাজহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী আমল করা। বিভ্রান্ত না হয়ে কুরআন-সুন্নাহ, ফিকহের নির্ভরযোগ্য মতামত এবং অভিজ্ঞ আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করাই উত্তম।
- Tags:
- ধর্ম ও জীবন

আপনার মতামত লিখুন :