বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড

ফুলবাড়ীয়া নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে একই গন্তব্যে পৌঁছালেও শেষ চারে ওঠার পথে দুই দলের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই আলাদা।

ইংল্যান্ড তুলনামূলক স্বস্তিতেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয় থমাস টুখেলের দলকে। এর আগে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই তারা নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করেছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার যাত্রা ছিল অনেক বেশি কঠিন। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড — দুই প্রতিপক্ষই লিওনেল স্কালোনির দলকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। টানা দুই নকআউট ম্যাচে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

মাঠে কাটানো সময়ের বিচারে ইংল্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি ধকল গেছে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেসদের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকভারির সময়ের প্রশ্নটিও। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার আগে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। ফলে সেমিফাইনালের আগে কয়েক ঘণ্টা বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন হ্যারি কেইনরা, যা টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে বড় সুবিধা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

পরের ম্যাচের আগে হাতে চার দিনেরও কম সময়। তাই খেলোয়াড়দের সতেজ রাখাই এখন স্কালোনির কোচিং স্টাফের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। সেমিফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে সর্বোচ্চ ফিটনেস নিশ্চিত করাটাই আর্জেন্টিনার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তবে ক্লান্তির সমীকরণে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ভ্রমণের হিসাবে চিত্রটা ভিন্ন। চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকেই। টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলতে গিয়ে আকাশপথে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন কেইন-সাকারা।

সেমিফাইনালের আগে তাই হিসাবটা কেবল ফুটবলীয় দক্ষতার নয়। ক্লান্তি, বিশ্রাম, ভ্রমণ আর মানসিক শক্তির লড়াইটাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রতিপক্ষ যখন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন ইতিহাস, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এই মহারণকে করে তুলেছে আরও অন্যরকম।